নিজস্ব প্রতিবেদক | তৃতীয়বাংলা
ঢাকা | ২৩ জুলাই ২০২৬
দেশে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এর ইতিবাচক প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইপিবির ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায়সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শুধু বিনিয়োগ আহ্বান নয়, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, লেদার, এগ্রো প্রসেসিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১২টি রপ্তানি খাতের প্রত্যেকটিরই ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জনের সক্ষমতা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা পেলে এসব খাত ভবিষ্যতে দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে।
তিনি তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, বর্তমানে দেশের বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই একসময় ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান কিংবা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। এ সময় সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি জানান।
সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের ২৭টি দেশে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটি অনুমোদন করা হয়। মেলাটি আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.