ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশই মনে করেন ব্রাউজারের ‘ইনকগনিটো মোড’ বা প্রাইভেট ব্রাউজিং চালু করলে অনলাইনে পুরোপুরি বেনামী (অ্যানোনিমাস) থাকা যায়। তবে প্রযুক্তির বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
ইনকগনিটো মোড মূলত আপনার ব্যবহৃত ডিভাইসে তথ্য সংরক্ষণ বন্ধ রাখে, তবে অনলাইনে নজরদারি বা ট্র্যাকিং থেকে আপনাকে পুরোপুরি আড়াল করতে পারে না।
ইনকগনিটো মোড আসলে কী সুবিধা দেয়?
ফায়ারফক্স বা সাফারি ব্রাউজারে ‘প্রাইভেট ব্রাউজিং’ নামে পরিচিত এই মোডটি মূলত স্থানীয় বা ব্যক্তিগত ডিভাইসের গোপনীয়তা রক্ষা করে:
ব্রাউজিং হিস্ট্রি মোছা: ভিজিট করা কোনো পেজ ব্রাউজিং হিস্ট্রিতে সেভ হয় না।
কুকিজ অপসারণ: প্রাইভেট উইন্ডো বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সেশনের সব কুকিজ ও সাইট ডেটা মুছে যায়।
পাসওয়ার্ড ও ফর্ম ডেটা সংরক্ষিত না হওয়া: কোনো লগইন তথ্য বা অটো-ফিল ইনফরমেশন ব্রাউজারে জমা থাকে না।
এক্সটেনশন বন্ধ থাকা: সাধারণত নিরাপত্তা স্বার্থে ব্রাউজার এক্সটেনশনগুলো নিষ্ক্রিয় রাখা হয়।
সহজ কথায়, একই ফোন বা কম্পিউটার অন্য কেউ ব্যবহার করলে তিনি আপনার ব্রাউজিং কার্যক্রম দেখতে পাবেন না—এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা এতে নেই।
ইনকগনিটো মোড নিয়ে বহুল প্রচলিত ৫টি ভুল ধারণা
১. ‘অনলাইনে পরিচয় পুরোপুরি গোপন থাকে’: এটি ভুল ধারণা। ইনকগনিটো মোড আপনার আইপি অ্যাড্রেস লুকায় না। ফলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ এবং ভিজিট করা ওয়েবসাইট সহজেই আপনার পরিচয় ও ইন্টারনেট ব্যবহার জানতে পারে।
২. ‘ওয়েবসাইটগুলো ট্র্যাক করতে পারে না’: থার্ড-পার্টি কুকিজ ব্লক থাকলেও ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং, আইপি অ্যাড্রেস ও সার্ভার-সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারে।
৩. ‘অফিস বা স্কুলের নেটওয়ার্কে চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়’: অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়াইফাই/নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে তাদের নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর রিয়েল-টাইমে আপনার প্রতিটি ব্রাউজিং কার্যক্রম ও ভিজিট করা সাইট দেখতে পান।
৪. ‘সাইবার আক্রমণ, ম্যালওয়্যার ও ফিশিং থেকে সুরক্ষা মেলে’: ইনকগনিটো মোডে নিরাপত্তাজনিত কোনো বাড়তি সুবিধা নেই। আপনি ক্ষতিকর কোনো লিংকে ক্লিক করলে বা র্যানসমওয়্যার জাতীয় ফাইল ডাউনলোড করলে ডিভাইস ঠিকই আক্রান্ত হবে।
৫. ‘বিজ্ঞাপনের ট্র্যাকিং বন্ধ হয়ে যায়’: বিজ্ঞাপনদাতারা তখনও আইপি অ্যাড্রেস ও নানা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য আপনাকে ট্র্যাক করতে পারে।
কখন ইনকগনিটো মোড কার্যকর?
উপহার কেনাকাটায় ব্রাউজিং হিস্ট্রি গোপন রাখতে।
অন্যের বা যৌথ ব্যবহারে থাকা কম্পিউটারে সাময়িকভাবে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে।
কোনো ওয়েবসাইট নতুন ভিজিটরের কাছে কেমন দেখায় তা পরীক্ষা করতে।
নির্দিষ্ট সীমার ফ্রি আর্টিকেল পড়া বা নিরপেক্ষ সার্চ রেজাল্ট দেখতে।
অনলাইন প্রাইভেসির জন্য করণীয়
অনলাইনে সত্যিকারের প্রাইভেসি ও ট্র্যাকিং মুক্ত থাকতে শুধু ইনকগনিটো মোডের ওপর নির্ভর না করে বিজ্ঞাপনী ট্র্যাকিং বন্ধে ‘অ্যাড ব্লকার’ ব্যবহার করা, ব্রাউজারের ট্র্যাকিং প্রোটেকশন চালু রাখা, প্রয়োজনে ভিপিএন ব্যবহার করা এবং ব্রেইভ বা টর-এর মতো প্রাইভেসি-বান্ধব ব্রাউজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.