যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে পারে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরান তত বেশি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানকে আক্রমণ করলে তার জন্য ‘মূল্য দিতে হবে’—এমন বার্তা দেওয়াও তেহরানের লক্ষ্য।
নাকদি বলেন, ‘আমেরিকার বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করতে হয়, সে বিষয়ে বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাদের আগে ছিল না। গত পাঁচ মাসে আমরা শিখেছি কীভাবে লড়াই করতে হয়।’
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়াই ইরানের লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানকে আক্রমণ করার সাহস না পায়।
তার ভাষায়, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে ক্ষয় করার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তেহরান। যাতে ভবিষ্যতে কেউ ইরানকে আক্রমণ করার আগে এর ‘মূল্য’ বিবেচনা করে।
পারমাণবিক হামলা নিয়েও হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাকদি সতর্ক করে বলেন, এটি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভুল হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বিপদের মুখে পড়বে।
তবে ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে যাচ্ছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে নাকদি বলেন, এর প্রয়োজন নেই। তার দাবি, ইরানের শক্তি জনগণের সমর্থন ও প্রতিরোধের মধ্যেই রয়েছে।
‘যুদ্ধ কয়েক বছর চললেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে ইরান’
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে নাকদি দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, তা ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
তিনি বলেন, যুদ্ধ কয়েক বছর ধরে চললেও শেষ দিন পর্যন্ত ইরান রকেট ছুড়তে সক্ষম হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায়ও অগ্রগতি নেই। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ পরস্পরবিরোধী দাবি করছে।
ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থাও অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.