তাবলিগ জামাতের বৈশ্বিক কেন্দ্র দিল্লির নিজামুদ্দীন মার্কাজের প্রধান মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিগণের (সাদপন্থী) সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তাবলিগ জামাতের মধ্যে নেতৃত্ব ও মতাদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কার্যক্রম মূলত মাওলানা সাদ কান্ধলভী ও মাওলানা জুবায়ের অনুসারীদের দুটি ধারায় বিভক্ত। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়েও কয়েক বছর ধরে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের কারণে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের শেষ সময়ে আর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি।
তবে তার আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বলা হয়েছিল, মাওলানা সাদের অনুসারীরা সেবারই শেষবারের মত টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করবেন। তার পর থেকে তাদের ইজতেমা অন্য কোথাও হবে, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর তিনি যখন জুবায়েরপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক করেন, তারা ওই সার্কুলারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দাবি তোলেন, সাদপন্থিরা যেহেতু তখন ‘সম্মত হয়েছিল’, সেহেতু এবার তারা আর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহার করতে পারবে না।
আজকে আলোচনায় দেখা গেল যে এটাতে এই সাদপন্থিগণ একমত নন। এবং তাদের দাবি হচ্ছে যে এটা কীভাবে কারা সই করেছে, তারা জানেন না। আমরা তো সরকারের দায়িত্বে তখন ছিলাম না। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সাথে উভয় পক্ষের আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এটা অনুষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্তে তারা এসেছিলেন এবং সবাই তখন একমত হয়েছিলেন।
এখন তাদের (সাদপন্থিদের) দাবি হচ্ছে, এই দুই পর্বে জুবায়েরপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের পরে একটা রিজনেবল, একটা যৌক্তিক সময় গ্যাপ দিয়ে তারা সেই একই ইজতেমা মাঠে এক পর্বে অনুষ্ঠান করতে চান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, এ বিষয়টা নিয়ে আমরা অপর পক্ষের সাথে আলোচনা করব, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা যারা সংশ্লিষ্ট এবং গোয়েন্দা বাহিনীগুলোর সাথে আমরা কথা বলব।
সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। যাতে কোনো রকমের সংঘর্ষ না হয়, যেহেতু ইতোপূর্বে সেরকম নজির হয়েছে, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য আমরা এটা লক্ষ্যে রেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,আগামী জানুয়ারিতে দুই পর্বের যে ইজতেমা হবে, তাতে জুবায়েরপন্থিরা অংশ নেবেন।
সাদপন্থিদের দাবি হচ্ছে, তারা (জুবায়েরপন্থিরা) করার পরে এবং রমজান শুরুর আগে যে মধ্যবর্তী সময়, সেই সময়ে তারা একটা পর্বে তাদের ইজতেমাটা করবেন। অথবা এই দুই পর্ব শুরু হওয়ার আগে নভেম্বরের শেষ দিকে করবেন। এটা হচ্ছে তাদের প্রস্তাব।
আমরা বলেছি, অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব এবং আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে আমরা সিদ্ধান্ত জানাব।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.