প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১১ (মঙ্গলবার)
‘রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার’: প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে একসঙ্গে দেশ গড়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামন্ডপ পরিদর্শনে এসে মন্দিরে শারদীয়া শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ বার্তা দেন।    

প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে এসে পূজারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্দিরের পক্ষ থেকে সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সস্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার সময় কোনো ধর্মের মানুষকে আলাদা করে দেখা হয়নি। বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই বছর আগে বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এই দেশের ছাত্রজনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, তাকে বিতাড়িত করেছে।                 

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, সেই আন্দোলনেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতেও এ সম্প্রীতি ধরে রাখার প্রত্যাশা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি আমাদের সবার। এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশটিকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সব বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।   

এই সরকার জনগনের সরকার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে এই দেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয় নাই। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, এই সরকারকে যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার, যে ভোট দেয়নি তারও সরকার। আমরা সব এলাকা বা সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে, তা বিবেচনা করে সব এলাকার সমবণ্টনের মাধ্যমে সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই।  

রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে সেতু-কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ রয়েছে।

এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভিতরে ভেদাভেদ ভুলে থাকতে হবে। একসঙ্গে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

ঐক্যের বদলে একটি মহলের ভিন্ন চিন্তা

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যে ঐক্য তৈরি করতে চাচ্ছে, একটি মহল তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদে তা তুলে ধরা উচিত। জনগণের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তা চায় এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

হিন্দু সম্প্রদায়কে নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করি, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করি, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করি। সর্বোপরি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেভাবে প্রয়োজন, আমরা সেভাবেই সবাই মিলে কাজ করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা আছি, এই বাংলাদেশ আমাদের। এই দেশকে সুন্দর করে আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করে গড়ে তুলব। 

মন্দিরের পেছনের হোস্টেলের মতো অবকাঠামো যেটি আছে তৈরিতে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি দেখতে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা প্রদানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুন্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্র দলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টচার্য প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।                

এর আগে বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান।

এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। রংপুরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন। সেখানেও তিনি সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।