প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ০২:১৭ (শুক্রবার)
স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাতেই পাকিস্তান বধ: শান্তর চোখে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে দলের বোলিং ইউনিটের মধ্যে থাকা “স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা”-কেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসাইন শান্ত ।

 

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ ৭৮ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়। ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। প্রথম ইনিংসেও তিনি নেন ৩ উইকেট। পুরো সিরিজে বাংলাদেশের স্পিনাররা মোট ২২টি উইকেট শিকার করেন। তাইজুলের পাশাপাশি মেহিদি হাসান মিরাজ ও দুর্দান্ত বোলিং করেন এবং পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

 

শুধু স্পিনাররাই নন, পেসাররাও ছিলেন সমান কার্যকর। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানা পুরো সিরিজে ১১ উইকেট শিকার করে আলোচনায় উঠে আসেন। ঢাকায় তার ৫ উইকেটে ৪০ রানের স্পেল ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট।

 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন,
“আমার মনে হয় এই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাই আমাদের সিরিজ জয়ের মূল কারণ। যে বোলারই দায়িত্ব পেয়েছে, সে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। চাপের মুহূর্তে রান আটকানো কিংবা উইকেট নেওয়ার মানসিকতা সবাই দেখিয়েছে। এটা দলের জন্য খুবই ইতিবাচক দিক।”

পঞ্চম দিনের সকালে পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজায়ান ও সাজিদ খান যখন প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন, তখন কিছুটা চাপ অনুভব করছিল বাংলাদেশ। তবে শান্ত মনে করেন, আগের তুলনায় এখন দল অনেক বেশি ধৈর্য ও পরিণত মানসিকতা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে পারে।

 

তিনি বলেন,
“সত্যি বলতে ওই সময়টা খুবই কঠিন ছিল। তবে আমি খুশি যে আমাদের দল এখন চাপের মুহূর্তে আগের মতো ভেঙে পড়ে না। মাঠে মুশফিকর রাহীম , লিটন দাস , মিরাজ ও মোমিনুল হক -এর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পরামর্শ আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।”

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয়ের সময় ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন লিটন দাস। দল যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন লিটন মাত্র ২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরপর তিনি অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন।

 

লিটনের প্রশংসা করে শান্ত বলেন,


“লিটনের ইনিংস ছিল পুরোপুরি দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী খেলা একটি দায়িত্বশীল ইনিংস। সে যেভাবে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করেছে, সেটি বড় দলের ক্রিকেটারদের মতোই ছিল। ড্রেসিংরুমের সবাই বিশ্বাস করেছিল, লিটন দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারবে।”

 

এছাড়া পুরো দলের পরিশ্রম, নিবেদন এবং ইতিবাচক মানসিকতারও প্রশংসা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি মনে করেন, এই সিরিজের সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

 

শান্ত বলেন,
“পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন দাপুটে জয় সবসময়ই বিশেষ কিছু। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ—সবাই অনেক পরিশ্রম করেছে। আমরা এই সাফল্যকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করতে চাই।”

 

সিরিজ চলাকালে মাঠে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ কিছু উত্তপ্ত মুহূর্তও দেখা গেছে। চতুর্থ দিনে শান্ত নিজেও রিজওয়ানের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। তবে অধিনায়কের মতে, শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ থাকায় দল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পেরেছে।

তার ভাষায়,


“যখন আপনার মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণ থাকে, তখন আপনি প্রতিপক্ষকে জবাব দিতে পারেন। আক্রমণাত্মক ফিল্ড সাজানোর আত্মবিশ্বাসও আসে। টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো এই লড়াইগুলো।”