রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক শিশু হত্যাকাণ্ডে শোকাহত পুরো দেশ। মাত্র ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ক্ষোভ ও বেদনা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পল্লবীতে গিয়ে রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ-খবর নেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় রামিসার বাবা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, হত্যাকারীকে এত দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। এজন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একইসঙ্গে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “এই নোংরা পরিবেশের কারণেই আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি। আমি চাই আমার বড় মেয়েকে এই পরিবেশ থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে।”
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক খণ্ড জমির আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রী তার আবেদনে সাড়া দিয়ে জমি প্রদানের আশ্বাস দেন এবং শিশুটির বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা গত মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
পরে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে রাখা একটি বালতির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয়রা অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করলেও মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.