সম্প্রতি একটি সত্য ঘটনা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি সেলুনের বাইরে অপেক্ষা করার সময় এক তরুণের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। কথার একপর্যায়ে সে জানতে চাইল, “ভাই, পুলিশ গাড়ি থামায় কেন?” প্রশ্নটি শুনে আমি অবাক হলাম। কারণ জানতে চাইলে সে এমন কিছু তথ্য জানায়, যা শুধু আমাকে নয়, যে কোনো সচেতন মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলবে।
তরুণটি জানায়, তার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির কোনো ইন্স্যুরেন্সও নেই, তবুও সে নিয়মিত গাড়ি চালায়। তার কথাবার্তায় ভয় বা অনুশোচনার কোনো ছাপ ছিল না। বরং বিষয়টিকে সে খুব সাধারণ বলেই মনে করছিল। আমি তাকে অনুরোধ করি—এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকতে। কারণ একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের নয়, একটি পরিবারের জীবনও বদলে দিতে পারে।
এই ঘটনার পর থেকে বারবার একটি প্রশ্ন আমাকে ভাবিয়ে তুলছে—আমরা কি সত্যিই নিরাপদ?
ঈদ সামনে। হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাস্তায় নামবেন। শিশুরা বেড়াতে যাবে, অনেকে দূরপাল্লার ভ্রমণে বের হবেন। কিন্তু আমাদের আশপাশে যদি এমন কেউ থাকে, যে লাইসেন্স ছাড়া, ইন্স্যুরেন্স ছাড়া এবং দায়িত্ববোধ ছাড়া গাড়ি চালায়, তাহলে সেই আনন্দ মুহূর্তেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।
বিশেষ করে তরুণ চালকদের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। তরুণ হওয়া কোনো অপরাধ নয়; বরং তারুণ্য শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক। কিন্তু যখন অভিজ্ঞতার অভাব, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কিংবা আইনকে অবহেলা করার প্রবণতা স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেটি সড়কের জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে যায়। পরিবার-পরিজন রাস্তায় চলাচল করে। একজন দায়িত্বহীন চালকের একটি ভুল সিদ্ধান্ত, কয়েক সেকেন্ডের বেপরোয়া গতি কিংবা একটি অবৈধ ড্রাইভিং পুরো একটি পরিবারকে আজীবনের কান্না উপহার দিতে পারে।
তাই এই ঈদে আমরা সবাই কিছু বিষয়ে সচেতন হই—
বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কখনো গাড়ি চালাব না।
গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখব।
গতিসীমা মেনে চলব।
স্কুল, আবাসিক এলাকা ও জনবহুল স্থানে অতিরিক্ত সতর্ক থাকব।
বেপরোয়া চালনা দেখলে নীরব দর্শক না থেকে সচেতন ভূমিকা পালন করব।
নিজের এবং অন্যের জীবনের মূল্য সমানভাবে বিবেচনা করব।
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সবাই নিরাপদে ঘরে ফিরে আসে। তাই আসুন, সত্য ঘটনা থেকে শিক্ষা নিই, দায়িত্বশীল হই এবং সড়কে এমন আচরণ করি যাতে কারও ঈদ শোকে পরিণত না হয়।
মনে রাখুন: স্টিয়ারিং আপনার হাতে, কিন্তু আপনার সিদ্ধান্তের প্রভাব অসংখ্য জীবনের উপর।
সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।
সবার ঈদ হোক আনন্দময়, নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত।
— এম মোস্তফা লিমন
সম্পাদক, তৃতীয়বাংলা (tritiobangla.news)
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.