প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬ ০২:২০ (রবিবার)
এক আকাশে দুই বিশ্বকাপ: কার প্রাপ্য আলো কেড়ে নিচ্ছে?

একজন ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে আমরা হয়তো বলতেই পারি, বেশি খেলা মানেই বেশি আনন্দ। কিন্তু বিষয়টি এত সহজ নয়। কারণ বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের বিশ্বকাপ এমন এক আয়োজন, যা অন্য যেকোনো ক্রীড়া ইভেন্টের ওপর বিশাল ছায়া ফেলে। সংবাদমাধ্যম থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন থেকে দর্শকের মনোযোগ—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ফুটবল বিশ্বকাপ।

এমন পরিস্থিতিতে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের অর্থ দাঁড়ায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে অনিবার্যভাবে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে এমন এক আসরের সঙ্গে, যার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বহুগুণ বেশি। ফলে নারী ক্রিকেটারদের অসাধারণ পারফরম্যান্স, নতুন রেকর্ড কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলো অনেক সময় প্রয়োজনীয় আলোচনাই পায় না।

এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সমতার। বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থাগুলো প্রায়ই নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সমান সুযোগের কথা বলে। কিন্তু যদি নারী ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোকেই এমন সময় দেওয়া হয়, যখন বিশ্বের অধিকাংশ দর্শকের চোখ অন্যদিকে, তাহলে সেই সমতার দাবি কতটা বাস্তব?

অবশ্য আয়োজকদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার ক্যালেন্ডার এখন অত্যন্ত ব্যস্ত। বিভিন্ন লিগ, মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক আসরের ভিড়ে সবার জন্য আলাদা সময় বের করা সহজ নয়। কিন্তু কঠিন মানেই অসম্ভব নয়। পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্তত এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব, যেখানে একটি বিশ্বকাপ অন্যটির উপস্থিতিতে গুরুত্ব হারায়।

নারী ক্রিকেট গত এক দশকে অসাধারণ অগ্রগতি করেছে। দর্শক বেড়েছে, প্রতিযোগিতা বেড়েছে, পেশাদারিত্ব বেড়েছে। এই সময়ে তাদের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টকে এমন একটি মঞ্চ দেওয়া উচিত, যেখানে সেটি নিজস্ব শক্তি ও মর্যাদায় আলো ছড়াতে পারে। ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে দর্শক ও প্রচারের লড়াইয়ে নামিয়ে দেওয়া নয়।

শেষ পর্যন্ত, বিষয়টি কোনো খেলার বিরুদ্ধে আরেকটি খেলার প্রতিযোগিতা নয়। বিষয়টি হলো প্রাপ্য সম্মান ও দৃশ্যমানতার। দুটি বিশ্বকাপই বিশ্বসেরাদের মঞ্চ। তাই একটির আলো অন্যটিকে ম্লান না করে, দুটোকেই আলাদা গুরুত্ব দেওয়াই ক্রীড়া বিশ্বের দায়িত্ব।

কলাম লেখক: এম. মোস্তফা

সম্পাদক, তৃতীয়বাংলা