লিখেছেন : এম মোস্তফা
তৃতীয়বাংলা ডেস্ক :সিলেট শুধু একটি অঞ্চল নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির এক শক্তিশালী ভিত্তি, প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস, চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবার সংকট, শিক্ষার প্রসারে প্রতিবন্ধকতা এবং বারবার বন্যার দুর্ভোগ এই সম্ভাবনাময় জনপদের অগ্রযাত্রাকে ধীর করে রেখেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেটে সিলেটের জন্য রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী ঘোষণা। আর এই উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির।
সিলেটের উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা সামনে এসেছে, তা কেবল কয়েকটি প্রকল্পের তালিকা নয়; এটি একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের নকশা। এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে। ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক উন্নয়ন এবং রেলওয়ে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন সহজ হবে, তেমনি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন দ্বারও উন্মুক্ত হবে।
তবে খন্দকার মুক্তাদিরের উন্নয়ন দর্শনের বিশেষত্ব হলো—তিনি শুধু সড়ক নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছেন, একটি অঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন মানুষের জীবনমানের উন্নতির মধ্য দিয়েই আসে। তাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো সিলেটকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি করবে।
বছরের পর বছর বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটবাসীর জন্য এবারের বাজেটে রয়েছে স্বস্তির বার্তা। নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়; এটি হাজারো কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ সিলেটের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
পর্যটন খাতেও এসেছে নতুন সম্ভাবনার সুবাতাস। জাফলং, রাতারগুল, বিছানাকান্দি ও শ্রীমঙ্গলের মতো বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যটকসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু রাজস্ব আয়ই বাড়বে না, বরং হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
খন্দকার মুক্তাদিরের এই উদ্যোগকে অনেকেই "সিলেটের জন্য উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট" হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। কারণ তিনি বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিত উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন—সব খাতকে একই সুতোয় গেঁথে তিনি সিলেটকে আগামী দিনের অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
নিঃসন্দেহে বাজেটের ঘোষণা মানুষকে আশাবাদী করে, কিন্তু সেই আশার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় বাস্তবায়নের মাধ্যমে। যদি ঘোষিত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় এবং বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সিলেট শুধু বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক অঞ্চল হিসেবেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে।
আজ সিলেটের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। উন্নয়নের সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। তাঁর নেতৃত্বে ঘোষিত এই রেকর্ড বরাদ্দ শুধু একটি বাজেট নয়; এটি সিলেটের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার, সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি এবং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সময়ই বলে দেবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তবে এটুকু নিশ্চিত—সিলেটের উন্নয়নের ইতিহাসে এবারের বাজেট এবং খন্দকার মুক্তাদিরের ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.