খেলাধুলা

বিশ্বকাপ প্যারেডে তোরেসের মন্তব্যে ট্রাম্পকে খোঁচা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৪

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের জয়সূচক গোলদাতা ফেরান তোরেস, বিজয় প্যারেডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।

স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই মুহূর্তে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যখন স্পেন জাতীয় দলের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্ত থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

মনে হচ্ছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ঘটে যাওয়া এমন আরও কিছু বিতর্কিত মুহূর্তের সঙ্গে এ ঘটনাটিও ভালোভাবে নেননি ফেরান তোরেস। তাই প্যারেডেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করার সুযোগ নেন বার্সেলোনার এ তারকা।

বিশ্বকাপ শেষে মাদ্রিদে ফেরার পর চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী বীরের সংবর্ধনা পায় স্পেন জাতীয় দল। ঐতিহ্য মেনে নিজেদের এই বড় জয় উদযাপনে বিজয় প্যারেডের আয়োজন করে স্প্যানিশ জাতীয় দল। এ প্যারেডে লাল রঙের একটি বেসবল টুপি মাথায় দেখা যায় তোরেসের, যাতে লেখা ছিল- ‘মেক স্পেন গ্রেট এগেইন’।

এই টুপিটি স্পষ্টতই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের প্যারোডি, যে স্লোগানটি তিনি ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করেছিলেন।

ফিফা বিশ্বকাপে, বিশেষত ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সম্পৃক্ততা নিয়ে যেভাবে ব্যাপক পর্যালোচনা হয়েছে, তাতে এটা প্রায় নিশ্চিত যে তোরেস যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং ৪৭তম প্রেসিডেন্টকেই খোঁচা দিয়েছেন।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দৃশ্যমানভাবে বিশ্বকাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ট্রাম্প। তবে তার এই সম্পৃক্ততার শুরুটা আরও অনেক আগে।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প এবং সেই বিড সফল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

এরপর থেকে ফিফার প্রথমবারের মতো চালু করা ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে এই গ্রীষ্মের শুরুর দিকে। জানা যায়, বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করাতে ফিফাকে প্রভাবিত করেছিলেন ট্রাম্প।

অনেকেই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলকে সুবিধা দিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর নিজের রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বালোগান মাঠে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দল সেই ম্যাচ জিততে পারেনি। তারপরও অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দল খেলাটির চেতনা এবং টুর্নামেন্টের নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করেছিল।

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন