যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা কমাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। সোমবার (২০ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব পেয়েছে তেহরান।
কাতার, মিশর ও পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো সংঘাত সাময়িক থামিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি পুনরুজ্জীবিত করা।
তবে কূটনীতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই দেশের সামরিক আগ্রাসন উল্টো গতিতে বাড়ছে, যা সমঝোতার পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
সম্প্রতি দুই দেশই তাদের সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন সেনা নিহতের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান ও তাদের সমর্থিত জোট কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি ও সৌদি বন্দরে অবরোধের হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করাকে ইরান তাদের দর-কষাকষির মূল হাতিয়ার মনে করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক পিছু হটতে রাজি নয়। প্রতিটি নতুন হামলার পর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা দুই দেশকেই একটি বিপজ্জনক সংঘাতের চক্রে আটকে ফেলছে।
মধ্যস্থতাকারীদের টানা দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ বড় ধরনের নমনীয়তা না দেখালে শান্তির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আল-জাজিরা।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন