তথ্য প্রযুক্তি

এআই মাইক্রো-ড্রামায় চীনের বিলিয়ন ডলারের বাজিমাত

এআইভিত্তিক মাইক্রো-ড্রামায় নতুন অর্থনৈতিক শক্তি চীন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:১৮

মাত্র এক থেকে তিন মিনিটের ছোট ছোট পর্ব, আর প্রতিটি পর্বের শেষ মুহূর্তে এমন চমক, যা দর্শককে পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য আগ্রহী করে তোলে। স্মার্টফোননির্ভর এই নতুন বিনোদনধারা ‘মাইক্রো-ড্রামা’ চীনে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। কম সময় ও কম খরচে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট তৈরি করে চীন এখন এই খাতকে বহু-বিলিয়ন ডলারের শিল্পে রূপ দিচ্ছে। 

‘মাইক্রো-ড্রামা’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখন নাটক নির্মাণের প্রায় প্রতিটি ধাপেই জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে। গল্প লেখা, স্টোরিবোর্ড তৈরি, ভিডিও নির্মাণ, কণ্ঠস্বর সৃষ্টি, সম্পাদনা এবং পোস্ট-প্রোডাকশন—সব ক্ষেত্রেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের ফলে একটি মাইক্রো-ড্রামা নির্মাণে সময় কয়েক মাস থেকে কমে কয়েক সপ্তাহে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ও প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।  

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চীনে প্রতিদিন গড়ে ৪৭০টি এআই নির্মিত মাইক্রো-ড্রামা প্রকাশিত হয়েছে। মার্চ মাসে বিভিন্ন স্ট্রিমিং ও শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মে এক মাসেই যুক্ত হয়েছে কয়েক হাজার নতুন এআই-নির্ভর শিরোনাম। এআইয়ের ব্যবহার শুধু নির্মাণ প্রক্রিয়াকেই দ্রুত করেনি, গল্প বলার ধরনেও এনেছে বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব।

বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে চীনের মাইক্রো-ড্রামা শিল্পের বাজারমূল্য ১২ হাজার কোটি ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই আয় দেশটির প্রথাগত সিনেমা হলভিত্তিক বক্স অফিসকেও অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুধু চীনের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়ছে মাইক্রো-ড্রামার জনপ্রিয়তা। বিভিন্ন ভাষায় সাবটাইটেল ও ডাবিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় দর্শকদের উপযোগী গল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারেও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এই নতুন বিনোদনধারা।

তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন