আন্তর্জাতিক

মার্কিন মূল্যস্ফীতির গতি শ্লথ, চীনের মন্থর প্রবৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে সতর্ক অপেক্ষা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৫:০১

হাফসা নূর. অর্থনীতি প্রতিবেদক : বিশ্ব অর্থনীতি এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সর্বশেষ অর্থনৈতিক সূচকগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমে এলেও, চীনের প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার ধীরগতিতে নেমে এসেছে। এর ফলে বাজারে এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর বিষয়ে আরও নমনীয় অবস্থান নিতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একটি ইতিবাচক তথ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য যথেষ্ট নয়। শ্রমবাজারের অবস্থা, ভোক্তা ব্যয়, মজুরি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ফেড তাদের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববাজারে এখনও বেশ কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক ইতিবাচক প্রবণতা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্ক আশাবাদ দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের সর্বশেষ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদার ধীরগতি, আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট এবং বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থরতা দেশটির অর্থনৈতিক গতি কমিয়ে দিয়েছে। যদিও উৎপাদন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে পায়নি।

চীনের অর্থনৈতিক ধীরগতি শুধু দেশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য, কাঁচামালের বাজার, উৎপাদনশিল্প এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও। বিশেষ করে যেসব দেশ চীনের আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আর্থিক অবস্থান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ও ডলারের বিনিময়মূল্য যেমন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের গতিপথ নির্ধারণ করে, তেমনি চীনের প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক শিল্প উৎপাদন, পণ্যের চাহিদা এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করে।

এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের নজর এখন পরবর্তী অর্থনৈতিক সূচকগুলোর দিকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (PCE), ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং চীনের নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা কর্মসূচি আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক অর্থনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চিত্রে আশার আলো যেমন রয়েছে, তেমনি সতর্কতার বার্তাও স্পষ্ট। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা—এসবই এখন বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন