শিক্ষা-সাহিত্য

চাপের মুখে জবি ডিনের অফিস ত্যাগ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ ১১:১২

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ডিন কার্যালয় ছাড়তে বাধ্য হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে জবি শাখা ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

তারা ড. আইনুল ইসলামের নিয়োগকে ‘ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন’ প্রক্রিয়ার অংশ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। একপর্যায়ে ড. আইনুল ইসলাম ডিন কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ড. আইনুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তাদের দাবি, এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখার সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, ড. আইনুল ইসলামের জুলাই আন্দোলনবিরোধী অবস্থান এবং ৩ আগস্ট গণভবনের বৈঠকে অংশগ্রহণের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে তার কাছে জবাব চাইলে তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। আমরা মনে করি, জুলাইয়ের চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রবিউল আউয়াল বলেন, আজকের ঘটনার পর অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামকে প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষক নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে আপাতত ক্যাম্পাসে না আসার জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি যদি আবার ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আজ ১৬ জুলাই, জুলাই শহীদ দিবস। জুলাই যোদ্ধারা ড. আইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে আন্দোলন করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তিনি ডিন অফিস ত্যাগ করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

তবে এ বিষয়ে ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা কিছু অভিযোগ তুলে আমার কাছে প্রতিবাদ জানায়। আমি পরিস্থিতি বিবেচনায় সসম্মানে অফিস ত্যাগ করি। ডিন হিসেবে আমার নিয়োগ সম্পূর্ণ আইনগতভাবে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গণভবনের বৈঠকে আমি তৎকালীন রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশে গিয়েছিলাম। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

শিক্ষা-সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন