হাফসা নূর সাংবাদিক, কলামিস্ট, এডিটর : শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিভাগ, তৃতীয়বাংলা
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০২:২১
ওয়েস্ট মার্সিয়া, এসেক্স | ২৪ জুলাই ২০২৬
একটি সাধারণ পারিবারিক ভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হলো এক অসহনীয় শোকের ঘটনায়। এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে এক শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর কিশোরী মেয়ে।
নিহতরা হলেন ৪২ বছর বয়সী শালিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিহা রহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সাত বছর বয়সী এক সদস্য সমুদ্রে সমস্যায় পড়লে তাঁরা তাকে সাহায্য করতে পানিতে এগিয়ে যান। শিশুটিকে পরবর্তীতে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযানে অংশ নেয় এসেক্স পুলিশ, এইচএম কোস্টগার্ড, আরএনএলআই, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা। প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হলেও শালিনা ও সামিহাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, আকস্মিক জোয়ারের পরিবর্তন এবং উপকূলের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ওয়েস্ট মার্সিয়ার উপকূল দ্রুত জোয়ারের জন্য পরিচিত, যেখানে বালুচর ও পানির গভীরতার পরিবর্তন অল্প সময়ের মধ্যেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এসেক্স পুলিশ ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বা কোনো ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ করেছেন, তাঁদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শালিনা ও সামিহার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, বন্ধু এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্বজনরা তাঁদের দুজনকেই ভালোবাসাপূর্ণ, সহানুভূতিশীল এবং পরিবারের প্রতি নিবেদিত মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। সংকটের মুহূর্তে প্রিয়জনকে রক্ষা করার জন্য তাঁদের এগিয়ে যাওয়া এক অসাধারণ মানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এই ঘটনা আবারও সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সবাইকে জোয়ারের সময় সম্পর্কে সতর্ক থাকতে, পানির পরিবর্তনশীল আচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বালুচরে প্রবেশ না করার পরামর্শ দিচ্ছে।
ওয়েস্ট মার্সিয়ার তীরে যখন শোকাহত মানুষ ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, তখন শালিনা ও সামিহার করুণ বিদায় একটি গভীর সত্য মনে করিয়ে দেয়—সমুদ্র যেমন শান্তির ও সৌন্দর্যের প্রতীক, তেমনি তার শক্তি কখনো কখনো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের ভালোবাসা, সাহস এবং আত্মত্যাগ তাঁদের প্রিয়জনদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
যুক্তরাজ্য থেকে আরো পড়ুন