যুক্তরাজ্য

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে অবৈধ কর্মীদের বিরুদ্ধে হোম অফিসের রেকর্ড অভিযান, গ্রেপ্তার ৭০১

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১০:০৫

তৃতীয়বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :বিউটি সেলুন, ডেলিভারি, গুদাম ও নির্মাণ খাতে জোরদার অভিযান; ছয় মাসে অভিযান বেড়েছে ৪৯ শতাংশ

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলে অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রেকর্ডসংখ্যক অভিযান ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে দেশটির হোম অফিস। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বেড়েছে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসজুড়ে মোট ৮৮৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ছয় মাসের তুলনায় অভিযানের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯ শতাংশ, আর গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে ২২ শতাংশ।

বিউটি ও সৌন্দর্যসেবা, ডেলিভারি, গুদামজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। হোম অফিসের দাবি, অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার কারণেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুরো যুক্তরাজ্যেও বেড়েছে অভিযান

শুধু ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস নয়, পুরো যুক্তরাজ্যেই অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে এ ধরনের অভিযান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে ২০ শতাংশ।

হোম অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বার্মিংহামে একদিনে ৯ গ্রেপ্তার

গত ১০ জুন বার্মিংহামে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হোম অফিস জানিয়েছে, এসব অভিযানের মাধ্যমে একটি সংগঠিত অপরাধী চক্রের কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযানের সময় অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ১,৫০০ পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেন কর্মকর্তারা।

অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার সন্দেহে কয়েকজন নিয়োগদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোম অফিস।

ডেলিভারি খাতেও অভিযান, গ্রেপ্তার ১৬

এর আগে ১৮ মে, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে সাবকন্ট্রাক্ট করা ডেলিভারি রুটে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে কাজ করছেন এমন কুরিয়ার চালকদের শনাক্ত করা।

অভিযানে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ইন্স্যুরেন্স না থাকার কারণে ৫টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেলিভারি ও পরিবহন খাতেও আইন মেনে কর্মী নিয়োগ এবং বৈধভাবে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নির্মাণ খাতেও ধরপাকড়

গত ২৩ মার্চ অবৈধভাবে কাজ করা নির্মাণশ্রমিকদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। চারটি পৃথক অভিযানে ১২ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ করে বা তাদের কাজের সুযোগ করে দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‘আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে’

হোম অফিসের এই অভিযানগুলো থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাজ্য সরকার অবৈধ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করছে। শুধু অবৈধভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের নয়, তাদের নিয়োগদাতা ও অবৈধ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অভিযানের আওতায় আনা হচ্ছে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে রেকর্ডসংখ্যক অভিযান ও গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে—যুক্তরাজ্যে কাজ করতে হলে বৈধ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

যুক্তরাজ্য থেকে আরো পড়ুন