দ্যা লিজেন্ড অফ ব্রিটিশ বাংলাদেশী

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকার মকবুল চৌধুরীর UK Asian Film Festival 2026-এর ২৮তম আসরে সেরা ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ১৩:১৫

ডেস্ক রিপোর্ট : একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বাংলাদেশি পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফার নাসির আলী মামুনকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র “Mamun: In Praise of Shadows” যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত UK Asian Film Festival 2026-এর ২৮তম আসরে সেরা ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে। ছবিটি নির্মাণ করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকার মকবুল চৌধুরী।

লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনে অবস্থিত দ্য গার্ডেন সিনেমায় ৩ মে ২০২৬ তারিখে ছবিটির প্রদর্শনীর পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীর আগে পরিচালকের সঙ্গে একটি দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যা সঞ্চালনা করেন অনিতা হরাম। আলোচনায় অংশ নেন মুম্বাইভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্ধার্থ জৈন এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল সিনেমা স্টাডিজের রিডার ড. আশ্বিন দেবাসুন্দরম।

আলোচকরা নাসির আলী মামুনের কাজকে আলো-আঁধারের এক অনন্য সমন্বয়ে নির্মিত অসাধারণ শিল্পকর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন, যা মানুষের মুখাবয়বের ভেতরে প্রবেশ করে ইতিহাসের সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে। একই সঙ্গে তারা প্রামাণ্যচিত্রটিকে মামুনের দীর্ঘ শিল্পযাত্রার একটি শৈল্পিক ও মননশীল ধারাবিবরণী হিসেবে উল্লেখ করেন।

লন্ডন ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকসহ চলচ্চিত্র উৎসবের অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির অগ্রণী ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন নাসির আলী মামুন। সত্তরের দশকে তিনিই প্রথম দেশে এই শিল্পধারার সূচনা করেন।

নির্মাতা মকবুল চৌধুরী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করে ছবিটি নির্মাণ করেছেন। এই সময় তিনি ঢাকা, কলকাতা থেকে শুরু করে প্যারিস ও নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নাসির আলী মামুনের সঙ্গে থেকে তাঁর শিল্পযাত্রা অনুসন্ধান করেছেন এবং বিভিন্ন গুণীজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতিহাস ক্যামেরায় ধারণ করার চেষ্টা করেছেন।

ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে আয়োজিত দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে UK Asian Film Festival অন্যতম। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল “Stories That Bind Us”, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এমন গল্পগুলোকে উৎসাহিত করে।