আন্তর্জাতিক

রোমে বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য খুন, আহত ছেলে; পলাতক সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ ০২:২৯

নিউজ ডেস্ক :

ইতালির রাজধানী রোমে এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ইতালীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তার খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে।

 

নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী জাহান হোসনে মমতাজ (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা ইসলাম আরোয়া। পরিবারের ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসাইন আইয়ন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

ইতালীয় গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোমের কাসালোত্তি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ধারালো মাংস কাটার অস্ত্র বা কুঠারসদৃশ একটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, শাহাদাত হোসাইন (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ব্যক্তিগত বিরোধ এবং নিহত নারীর প্রতি তার অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রহের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি পুলিশ।

 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে মা, বাবা ও তাদের কন্যা নিহত হন। পরিবারের ছেলে আমির গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার পর একজন ব্যক্তিকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখেছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন যে বাসায় ফিরে তিনি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, পুরো ফ্ল্যাট রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন।

 

নিহত পরিবারটি কয়েক বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছিল এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ছিল। এই ঘটনায় ইতালির বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসাইনকে গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী ঘোষণা করছে না এবং সকল তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন