রাজনীতি

নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি—প্রতিপক্ষ নয়, গণতান্ত্রিক সহযাত্রী

"এভাবেই এগিয়ে যাক নতুন বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার রাজনীতি আরও শক্তিশালী হোক। সংসদের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার কুশল বিনিময় হোক একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা।"

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ ০০:০৪

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কেবল ভোটে নয়; এর প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। সংসদে তর্ক হবে, মতপার্থক্য থাকবে, নীতিগত বিরোধ থাকবে—এসবই একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেই বিরোধ যদি ব্যক্তিগত বিদ্বেষে রূপ নেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং জনগণের আস্থা।

একটি রাজনৈতিক ছবি অনেক সময় হাজারো বক্তব্যের চেয়েও শক্তিশালী বার্তা বহন করে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সৌজন্যপূর্ণ কুশল বিনিময় সেই বার্তাই দেয়—মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু শত্রুতা নয়। সংসদে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন, হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা সৌজন্যমূলক আলাপ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে না; বরং আরও পরিণত করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সংঘাত, অবিশ্বাস এবং প্রতিহিংসার নানা অধ্যায়ে পরিপূর্ণ। এর ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো অনেক সময় দলীয় বিভাজনের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চায়, যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তন হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, বিরোধিতা হবে যুক্তির ভিত্তিতে এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি কিংবা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক শক্তির সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়; বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। একইভাবে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ের দায়িত্ব সংসদকে কার্যকর বিতর্কের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে নীতি, পরিকল্পনা ও জনগণের কল্যাণই হবে আলোচনার মূল বিষয়।

বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন যেমন চায়, তেমনি চায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু তা যেন গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকে নষ্ট না করে। একটি সভ্য গণতন্ত্রে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা হয় নির্বাচনে, অপমানের মাধ্যমে নয়।

নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই বাস্তবে রূপ নেবে, যখন রাজনৈতিক নেতারা বুঝবেন—ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু রাষ্ট্র স্থায়ী। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ শুরু হতে পারে একটি সাধারণ করমর্দন থেকেই—কারণ সৌজন্য দুর্বলতার নয়, বরং রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতীক।

 

লেখক : ফয়সাল আহমেদ

 রাজনৈতিক বিশ্লেষক, 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি, তৃতীয়বাংলা 

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন