খেলাধুলা

বিশ্বকাপ শেষ, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ভুলতে পারছেন না হালান্ড

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে আর্লিং হালান্ডের মিশন শেষ। তবে এই সফর যে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের মনে গভীর দাগ কেটেছে, তা স্পষ্ট। 

ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড সম্প্রতি তার ছুটির দিনের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে আমেরিকান সংস্কৃতির চেনা আমেজে মেতে থাকতে দেখা গেছে—খালি গায়ে ইয়ট থেকে গলফ বল মারা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে ইলা ল্যাংলির কান্ট্রি মিউজিক উপভোগ করা।

নরওয়েকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার পর—যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দেশটির সেরা পারফরম্যান্স—হালান্ড এখন ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহের ছুটি কাটাচ্ছেন। কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর নতুন ম্যানেজার এনজো মারেস্কার অধীনে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম মৌসুম। 

মাঝের এই সময়টায় নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার তার গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে আমেরিকান সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। 

হালান্ডের অফিশিয়াল স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খালি গায়ে এক বিলাসবহুল ইয়টে দাঁড়িয়ে সাগরের বুকে গলফ বল মারছেন তিনি, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ইলা ল্যাংলির গাওয়া গান ‘চুজিং টেক্সাস’। 

এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত সাড়া ফেলে। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন যে, আমেরিকায় কাটানো সময়ের পর হালান্ড যেন একজন ‘সম্মানসূচক আমেরিকান’ হয়ে উঠেছেন।

একজন ভক্ত লিখেছেন, ‘ইয়ট থেকে গলফ বল মারা আর ব্যাকগ্রাউন্ডে ইলা ল্যাংলির গান শোনা—এই মুহূর্তে আর্লিং হালান্ডকে তো প্রায় আমেরিকানই বলা চলে।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হালান্ডের এই সংযোগের শুরু মূলত বিশ্বকাপ চলাকালীন। নরওয়ে তাদের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হয়েছিল ডালাসে এবং এই স্ট্রাইকার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে টেক্সাসে কাটানো সময়টা তিনি দারুণ উপভোগ করেছেন। তার ইউটিউব ভ্লগে তিনি এই ‘লোন স্টার স্টেট’ (টেক্সাস)-এ থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত দেখিয়েছেনও। এমনকি দেশে ফেরার সময় স্থানীয় ‘ওয়াইল্ড বিলস’ দোকান থেকে কেনা ৭৫০ ডলারের একটি ট্যাক্সিডার্মি রেকুন (সংরক্ষিত মৃত পশুর চামড়া) সঙ্গে করে নিয়ে যান, যা নরওয়ে দল দেশে পৌঁছানোর পর তার হাতে দেখা গিয়েছিল। 

নিজের ইউটিউব ভিডিওতে হালান্ড বলেন, ‘এখানকার মানুষজন চমৎকার। তারা খুবই ইতিবাচক। আমি জানি না এটা কী, তবে তারা জীবনটাকে সত্যিই উপভোগ করতে জানে। আমি নিশ্চিতভাবেই এখানে আবার আসব।’ 

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ আসরে ৭টি গোল করে নরওয়েকে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সেরা সাফল্য এনে দিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। গ্রুপ পর্বে ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর, শেষ ১৬-এর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষেও জোড়া গোল করেন তিনি। 

সূত্র: মার্কা 

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন