নকশা

বিশ্বকাপ ঘিরে এআই–সৃষ্ট ভুয়া তথ্যের বিস্তার, বাড়ছে উদ্বেগ

হাফসা নূর এডিটর, শিল্প সাহিত্য বিভাগ, তৃতীয়বাংলা, কলামিস্ট

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ ০৩:০৬

ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুর্নামেন্টকে ঘিরে আলোচনা এখনো অব্যাহত। তবে খেলার বিশ্লেষণ ও স্মৃতিচারণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, সম্পাদিত ছবি এবং মনগড়া উদ্ধৃতি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। তথ্য–যাচাইকারী সংস্থাগুলো বলছে, এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভুল তথ্য শনাক্ত করা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে ফুটবলার, কোচ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যা বাস্তবে তাঁরা কখনোই দেননি। উন্নত এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এসব ভিডিও এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে অনেক ব্যবহারকারীর পক্ষে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা সহজ ছিল না।

 

ভিডিওর পাশাপাশি সম্পাদিত ছবিও বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি বড় মাধ্যম হয়ে ওঠে। বিভিন্ন খেলোয়াড়, কোচ ও পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি এবং তাঁদের নামে প্রচারিত মনগড়া উদ্ধৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফ্যাক্ট–চেকিং সংস্থাগুলোর যাচাইয়ে এসব তথ্যের অনেকগুলোরই কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বাস্তব ও কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্টের পার্থক্য নির্ণয় ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি জনমত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

 

তাঁদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান যথেষ্ট নয়; ব্যবহারকারীদের মধ্যেও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কোনো তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা স্বীকৃত ফ্যাক্ট–চেকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেটি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপকে ঘিরে এআই–সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর তথ্যের এই প্রবণতা ভবিষ্যতের বড় ক্রীড়া আসর, আন্তর্জাতিক সংকট কিংবা অন্যান্য বৈশ্বিক ঘটনাতেও দেখা যেতে পারে। তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন তাঁরা।

নকশা থেকে আরো পড়ুন