প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩৬
ঢাকা রিপোর্টার: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ শেষ হলেই তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব হবে না এবং আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে এ উদ্যোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং তা শিগগিরই সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।
কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরকালে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফ এ বিষয়ে কোনো শর্ত আরোপ করেনি; তারা কেবল আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরে আইএমএফের ঋণের কোনো প্রভাব নেই। কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বারবার মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন।
প্রায় এক যুগ পর গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রথমে তিন ধাপে এবং পরে দুই ধাপে বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রস্তাব এলেও শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরে ভাতা কার্যকর করার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হয়েছেন।
এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি জনপ্রশাসন খাতে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অতিরিক্ত এই বরাদ্দের বড় একটি অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন ও ভাতা বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন