নারী নির্যাতনের মামলায় কারাবরণ করা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সরকারের স্বপদে পুনঃযোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক অনুমোদন ও হাজতবাসকালীন চাকরির অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তিনি বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং ক্লাশ-পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বর্তমানে তার অধ্যাপক পদে পদোন্নতির আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় বিষয়টি নতুন করে ক্যাম্পাসে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবুও বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী কোনো শিক্ষক ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্তে রাখার বিধান রয়েছে। জামিনে মুক্তির পর দায়িত্বে ফিরতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে পুনরায় যোগদান করতে হয়; কিন্তু সঞ্জয় কুমার এসব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি।
এদিকে ড. সঞ্জয় বর্তমানে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। পদোন্নতির আগে তার সার্ভিস রেকর্ড, হাজতবাসকালীন প্রশাসনিক অবস্থা, পুনঃযোগদানের বৈধতা এবং শৃঙ্খলা বিধি অনুসরণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন শিক্ষকরা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে ড. সঞ্জয় কুমার ও অপর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। একই ঘটনায় অভিযোগকারীর ছেলেকে (ওই বিভাগের শিক্ষার্থী) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে নিজ বিভাগের এক ছাত্রী তার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুললে সেই সময় বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার নিজ স্ত্রীর করা যৌতুক ও নির্যাতন মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন এবং পরে জামিন পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও তৎকালীন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযোগগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ড. সঞ্জয় কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ভেবেছিলাম আদালতই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাবে। মাত্র চার-পাঁচ দিন জেল-হাজতে ছিলাম এবং পরে মামলা ডিসমিস হওয়ায় প্রশাসনকে আর জানানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এগুলো অনেক আগের ঘটনা হওয়ায় সেই সময় কী ঘটেছিল সেটা আমরা জানি না। তার ফাইলে এ ধরনের কোনো বিষয় আছে কিনা আমার জানা নেই। হয়তো তৎকালীন প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কেন নেয়নি সেটা তারাই বলতে পারবে। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। আগে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা-সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন