তথ্য প্রযুক্তি

স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর সহজ উপায়

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০২

মোবাইলে জরুরি কোনো কাজ করার সময় হঠাৎ ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলে বেশ বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওয়েবসাইট খুলতে দেরি, ভিডিওতে বারবার বাফারিং কিংবা মেসেজ পাঠাতে দীর্ঘ সময়—এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই। অথচ ফোনে নেটওয়ার্কের বার ঠিকঠাকই দেখা যায়।

এমন অবস্থায় অনেকেই ফোনের এরোপ্লেন মোড চালু করে কয়েক সেকেন্ড পর আবার বন্ধ করেন। কিন্তু এতে কি সত্যিই ইন্টারনেটের গতি বাড়ে?

মোবাইল ইন্টারনেটের গতি শুধু নেটওয়ার্ক বারের ওপর নির্ভর করে না। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় ফোনকে বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ পরিবর্তন করতে হয়। কখনো এমনও হয়, আশপাশে তুলনামূলক ভালো সিগন্যালের টাওয়ার থাকা সত্ত্বেও ফোন আগের টাওয়ারের সঙ্গেই সংযুক্ত থাকে।

এ কারণে ফোনে পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক দেখা গেলেও ডাটা আদান-প্রদানের গতি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে চলন্ত অবস্থায়, দুর্বল নেটওয়ার্ক কভারেজের এলাকায় কিংবা কোনো টাওয়ারে অতিরিক্ত চাপ থাকলে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এরোপ্লেন মোডে কী পরিবর্তন হয়?

এরোপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সেলুলার নেটওয়ার্ক সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে আগের মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগটি কেটে যায়। পরে এরোপ্লেন মোড বন্ধ করলে ফোন আবার নতুন করে আশপাশের মোবাইল নেটওয়ার্ক খুঁজে সংযোগ স্থাপন করে।


এভাবে নতুন করে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সময় ফোন তুলনামূলক ভালো কোনো সংযোগ পেয়ে যেতে পারে। আগের সংযোগে সমস্যা থাকলে সেটিও দূর হতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এরোপ্লেন মোড কোনোভাবেই ফোনের ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় না। বরং এটি মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগটি নতুন করে স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

যদি ইন্টারনেট ধীর হওয়ার কারণ হয় পুরনো, দুর্বল বা সমস্যাযুক্ত নেটওয়ার্ক সংযোগ, তাহলে এরোপ্লেন মোড চালু ও বন্ধ করার পর গতি আগের তুলনায় বাড়তে পারে। তাই অনেক সময় এই ছোট্ট কৌশলটি কার্যকর মনে হয়।

তবে সমস্যার কারণ যদি হয় কোনো এলাকায় মোবাইল টাওয়ারে অতিরিক্ত চাপ, দুর্বল সিগন্যাল, ডাটা প্যাকের সীমা শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা অপারেটরের নেটওয়ার্কে কোনো ত্রুটি, তাহলে এরোপ্লেন মোড অন-অফ করলেও তেমন কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন