✍️ নওশের আলী টরন্টো, কানাডা
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ ০২:৪৫
কানাডার টরন্টোতে “জালালাবাদ এসোসিয়েশন” শুধুমাত্র একটি বৃহৎ সংগঠনের নাম নয়; এটি বহির্বিশ্বে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও তুলে ধরার অন্যতম শক্তিশালী প্লাটফর্ম।
বিশেষ করে টরন্টোর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং মেইনস্ট্রিম অঙ্গনে বৃহত্তর সিলেটবাসীর সক্রিয় উপস্থিতি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন ও কমিউনিটি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে আত্মিক বন্ধন, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।
এবারের জালালাবাদ এসোসিয়েশন নির্বাচন সেই কমিউনিটির প্রাণচাঞ্চল্যেরই এক প্রতিচ্ছবি। তিনটি শক্তিশালী প্যানেলের অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই নয়, বরং অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণ ও আলোচিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর প্রবাসের মাটিতে যেন দেশের নির্বাচনী আবহ অনুভূত হয়েছে।
আমরা সংগঠনের সকল নির্বাহী সদস্য ও প্রার্থীদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ জানাই—
ধৈর্য ধরুন, একে অপরকে সম্মান করুন, আস্থা রাখুন এবং পারস্পরিক সহনশীলতার পরিচয় দিন। কারণ একটি সুন্দর নির্বাচন কেবল বিজয়ীদের জন্য নয়, পুরো কমিউনিটির মর্যাদার প্রতীক।
নির্বাচনের তৃতীয় দিনের পরিবেশ দেখতে আমরা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলাম। আবার ভোট গণনার দিনও আপনাদের পাশে থেকে পুরো পরিস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে গতকাল আকস্মিক যে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও পুলিশের গাড়ির উপস্থিতি দেখা গেল—তা আমাদের ব্যথিত করেছে।
কারণ আমরা সবাই চেয়েছিলাম একটি উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি।
প্রতিটি প্যানেলের অধিকাংশ প্রার্থীই আমাদের পরিচিত ও প্রিয় মানুষ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁরা নিজেদের সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করে নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। তাঁদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতি আমাদের সম্মান ও শুভকামনা রইলো।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে—
এই নির্বাচনে মোট ৮৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২৯ জন বিজয়ী হবেন, আর ৫৮ জনকে ফলাফল মেনে নিতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের বাস্তবতা এবং সৌন্দর্য।
আমরা আশাবাদী, আগামী শুক্রবার ২২শে মে চূড়ান্ত ভোট গণনার মাধ্যমে সকল বিভ্রান্তি, সন্দেহ ও দ্বিধার অবসান ঘটবে।
বৃহত্তর সিলেটবাসীর প্রতি আমাদের বিনীত আহ্বান—
চূড়ান্ত ফলাফল ইতিবাচক মানসিকতায় গ্রহণ করুন, একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরুন এবং প্রমাণ করুন—প্রবাসের মাটিতেও আমরা ঐক্যবদ্ধ।
আপনারাই কানাডার মাটিতে ছোট্ট একখণ্ড বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আপনাদের সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও ঐক্যই আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক ইতিহাস হয়ে থাকবে।
মনে রাখবেন —
“আপনারা হেরে গেলে, কিছুটা হলেও হেরে যায় পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি।”
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং ইতিবাচক থাকুন।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন