প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ ০৪:২৪
এম মোস্তফা লিমন,ডেস্ক রিপোর্ট :যুক্তরাজ্যের কেয়ার সেক্টরে সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে হোম অফিস। গত কয়েক বছরে শত শত কেয়ার হোম ও কেয়ার কোম্পানির স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বিদেশি কেয়ার ওয়ার্কার চাকরি, ভিসা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪৭০টিরও বেশি কেয়ার সেক্টরের স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আসা প্রায় ৩৯ হাজারের বেশি কর্মী বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
হোম অফিসের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠান—
ভুয়া চাকরির অফার দিয়েছে নির্ধারিত বেতন দেয়নি পর্যাপ্ত কাজ ছাড়াই কর্মী এনেছে স্পনসরশিপ নীতিমালা ভঙ্গ করেছে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেতবে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন কেয়ার ওয়ার্কাররা। অনেকেই বৈধভাবে ঋণ নিয়ে, সম্পদ বিক্রি করে বা পরিবার থেকে টাকা ধার করে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। কিন্তু কোম্পানির ভুল বা অনিয়মের প্রভাব এখন সরাসরি তাদের জীবনে পড়ছে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর অধিকাংশ কর্মীকে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে নতুন স্পনসর খুঁজে নিতে বলা হয়। কিন্তু বর্তমান কঠোর বাজারে এত অল্প সময়ে নতুন চাকরি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফলে বহু পরিবার আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ এবং বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে—
সম্ভাব্য সমাধান
ক্ষতিগ্রস্ত কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য বিশেষ ভিসা সুরক্ষা বা অতিরিক্ত সময় প্রদান লাইসেন্স বাতিলের আগে কর্মীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করা ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দ্রুত নতুন স্পনসরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য সরকারি সহায়তা সেল গঠন অসাধু মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ বৈধ ও সৎ কেয়ার কোম্পানিগুলোর জন্য সহজ ও স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি বিদেশি কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তা ও কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করাকমিউনিটি নেতারা বলছেন, কেয়ার সেক্টরে অনিয়ম বন্ধ করা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে কেয়ার ওয়ার্কারদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। যারা বৈধভাবে কাজ করতে এসেছেন, তাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের কেয়ার সেক্টর এখনও বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই কঠোর নজরদারির পাশাপাশি মানবিক ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাজ্য থেকে আরো পড়ুন