প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ ০৪:২৪
স্পোর্টস ডেস্ক :চার দশক পেরিয়ে গেলেও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সেই কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি এখনও ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীদের তাড়া করে বেড়ায়। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে দিয়েগো ম্যারাডোনা এমন এক ম্যাচ উপহার দিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমর।
সেদিন ম্যারাডোনা করেছিলেন দুটি গোল। প্রথমটি ইতিহাসে স্থান পেয়েছে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে। গোলরক্ষক পিটার শিলটনের আগে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে জড়ান ম্যারাডোনা। রেফারি তা দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ সেদিন কোনো কাজে আসেনি।
এর মাত্র চার মিনিট পরই আসে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংল্যান্ডের পাঁচজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন ম্যারাডোনা। সেই গোল আজও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত।
২-১ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনা সেবার বিশ্বকাপ জিতে নেয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচটি আজও এক অপূর্ণ আক্ষেপের নাম। অনেকেরই বিশ্বাস, যদি তখন VAR প্রযুক্তি থাকত, তাহলে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি বাতিল হয়ে যেত এবং ম্যাচের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত।
২০০২ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কিছুটা প্রতিশোধ নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই জয় কখনোই ১৯৮৬ সালের বিতর্কিত পরাজয়ের ক্ষত পুরোপুরি মুছে দিতে পারেনি।
এবার আবারও ইতিহাস নতুন করে লেখা হতে পারে।
আজ যদি আর্জেন্টিনা তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে যায়, তাহলে বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড। চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে ‘হ্যান্ড অব গড’, ম্যারাডোনা এবং ১৯৮৬ সালের সেই বিতর্কিত ম্যাচের স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায়।
ইংল্যান্ডের জন্য এটি হবে শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং চার দশকের অপেক্ষার প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চ। আর আর্জেন্টিনার জন্য এটি হবে তাদের গৌরবময় ফুটবল ঐতিহ্যকে আরও একবার বিশ্বের সামনে প্রমাণ করার সুযোগ।
ফুটবল ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অব গড’ চিরকাল আলোচিত থাকবে। তবে যদি বুধবার ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মের সামনে তৈরি হবে আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায় লেখার সুযোগ। প্রশ্ন একটাই—৪০ বছরের পুরোনো হিসাব কি এবার মিটবে?
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন