আন্তর্জাতিক

প্যারোল ও ডিফার্ড অ্যাকশন প্রাপ্তদের সীমিত হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ ১৬:৫৩

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) সম্প্রতি এমন একটি নতুন নীতিমালার খসড়া প্রস্তাব সামনে এনেছে, যা কার্যকর হলে দেশের অভিবাসন ও শ্রমবাজার ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবটি মূলত নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী গোষ্ঠীর জন্য ওয়ার্ক পারমিট বা এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট (ইএডি) পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি প্যারোল স্ট্যাটাসে আছেন, ডিফার্ড অ্যাকশন সুবিধা পাচ্ছেন, অথবা যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই নীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ কর্মসংস্থান কমানো এবং স্থানীয় মার্কিন শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এর ফলে ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় আগের তুলনায় অনেক বেশি যাচাই-বাছাই এবং শর্ত যুক্ত হতে যাচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের এখন থেকে তাদের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা বা অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা প্রমাণ করতে হতে পারে। অর্থাৎ, শুধু অভিবাসন স্ট্যাটাস থাকলেই আর কাজের অনুমতি পাওয়া সহজ হবে না; বরং প্রমাণ করতে হবে কেন তাদের কাজ করা প্রয়োজন। এই পরিবর্তনটি অভিবাসীদের জন্য একটি অতিরিক্ত কঠিন ধাপ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া নিরাপত্তা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কঠোরতা আনা হয়েছে। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে, গ্রেপ্তার বা বিচারাধীন মামলা রয়েছে, অথবা যাদের গ্যাং সংশ্লিষ্টতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে—তাদের ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে। এই দিকটি অভিবাসন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা-ভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে এখন থেকে ই-ভেরিফাই সিস্টেমে নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করা বাধ্যতামূলক হতে পারে। এর ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব তৈরি হবে এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।

একইসঙ্গে সকল আবেদনকারীর জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা স্ক্রিনিং আরও কঠোরভাবে সম্পন্ন করা হবে। এর পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে, যা আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম সময়ের জন্য বৈধতা দেবে। নবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে কঠোর দিকগুলোর একটি হলো চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবস্থান। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই শ্রেণির অধিকাংশ অভিবাসী আর ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার যোগ্য থাকবেন না। শুধুমাত্র সীমিত কিছু পরিস্থিতিতে, যেখানে প্রত্যাবাসন বাস্তবসম্মত নয় বা সম্ভব নয়, সেখানেই ব্যতিক্রম বিবেচনা করা হতে পারে।

নীতিটি কার্যকর হলে এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত অভিবাসীদের জীবনেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে যেসব খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে শ্রমিক সংকট, নিয়োগে জটিলতা এবং কর্মী পরিবর্তনের হার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ই-ভেরিফাইসহ বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার চাপ বাড়তে পারে।

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো আইন নয়। ডিএইচএস বর্তমানে প্রস্তাবটি জনমত গ্রহণের পর্যায়ে রেখেছে। বিভিন্ন পক্ষের মতামত, পরামর্শ এবং আপত্তি পর্যালোচনা করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি এটি অনুমোদন পায়, তাহলে নতুন আবেদন ও নবায়ন—উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন