আন্তর্জাতিক

ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার বিল খারিজ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ ১৭:০২

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার বিতর্কিত একটি বিল সিনেটে বাতিল হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় কার্যত নাকচ হয়ে যায়।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই বিলটির কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য ছিল ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা। অর্থাৎ ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো সরকারি নথি দেখানো বাধ্যতামূলক করার কথা ছিল। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার সময় ছবি সংযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন এবং রাজ্যগুলোর ভোটার তালিকা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে (ডিএইচএস) জমা দেওয়ার মতো কঠোর বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়। সমর্থকদের মতে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়। তাদের দাবি ছিল, নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও সুরক্ষিত হবে এবং ভোট জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে।

তবে সমালোচকরা এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির কোনো শক্ত প্রমাণ নেই এবং এই ধরনের কঠোর নিয়ম বাস্তবায়ন হলে লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, বয়স্ক নাগরিক এবং যাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহজলভ্য নয়—তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিলটি কেবল একটি নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও রাজ্যভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থার ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। কারণ এটি রাজ্যগুলোর স্বাধীন নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল, যা দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতো।

বিলটির পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক সমর্থন ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে ভোটার জালিয়াতির কারণে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রভাবিত হয়েছিল, যদিও এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। তার সমর্থকদের মতে, এই ধরনের সংস্কার যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে পারত।

তবে সিনেটে বিলটি পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় এটি আইনে পরিণত হতে পারেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত এই বড় ধরনের উদ্যোগ আপাতত থেমে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু এখানেই শেষ হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে। ভোটার আইডি, নাগরিকত্ব যাচাই এবং নির্বাচন কেন্দ্রীয়করণ—এই বিষয়গুলো আগামী নির্বাচনগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে থাকবে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন