যুক্তরাজ্য

বার্মিংহামে চট্টগ্রাম সমিতির দ্বিতীয় মেজবান: প্রবাসে ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলা

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৪

প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম সমিতি বার্মিংহামের দ্বিতীয় মেজবান অনুষ্ঠান। গত রোববারের এ আয়োজনে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, আনন্দ-আড্ডা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

চট্টগ্রামের মেজবান কেবল একটি ভোজের আয়োজন নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের অতিথিপরায়ণতা, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে প্রবাসে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি : 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বার্মিংহামের সাবেক লর্ড মেয়র কাউন্সিলর জাফর ইকবাল (Councillor Zafar Iqbal MBE), বার্মিংহামের বর্তমান লর্ড মেয়র কাউন্সিলর জাকার চৌধুরী (Councillor Zaker Choudhry), বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর Councillor Mumtaz Hussain (Aston ward)এবং বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, বার্মিংহামের ফার্স্ট সেক্রেটারি  মোছা. হামিদা খাতুন।

বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। প্রবাসে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।

সংগঠকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা :

মেজবানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চট্টগ্রাম সমিতি বার্মিংহামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুজিবুল্লাহ, সভাপতি আখতার হোসেন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরুল, সহসভাপতি এস এম মুখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ উল হুদা,কোষাধ্যক্ষ শেখ নুর উদ্দিন চৌধুরী,সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ আলী এবং উপদেষ্টা খালেদ চৌধুরী।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পরিকল্পনা এবং আন্তরিকতায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথিদের আপ্যায়ন, খাবার পরিবেশন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল আন্তরিকতার ছাপ। আয়োজকদের সহযোগিতায় উপস্থিত অতিথিরা স্বাচ্ছন্দ্যে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

মেজবানি খাবার ও আনন্দ-আড্ডায় মুখর পরিবেশ: 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার। ভরপুর খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে চলে প্রাণবন্ত আড্ডা, কুশল বিনিময় ও স্মৃতিচারণ। দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এ আয়োজনকে ঘিরে।

কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের বাইরে এমন একটি অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে পেরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে বেড়ে ওঠা মানুষের কাছে মেজবান ছিল শিকড়ের টান অনুভব করার এক বিশেষ উপলক্ষ। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরারও একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি হয়।

সংবাদমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা :

অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ, ছবি ধারণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা এ আয়োজনের আনন্দ ও তাৎপর্য বৃহত্তর কমিউনিটির কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁদের পেশাদার প্রচেষ্টা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং কমিউনিটির ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের পরিচিতি বাড়াতে সহায়তা করে।

প্রবাসে ঐতিহ্য রক্ষার প্রত্যয় :

চট্টগ্রাম সমিতি বার্মিংহামের দ্বিতীয় মেজবান প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি দিনের আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার পথ তৈরি করে।

প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ মানুষের অংশগ্রহণে এবারের মেজবান পরিণত হয় এক আনন্দঘন সামাজিক মিলনমেলায়। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে প্রবাসের মাটিতে বাঁচিয়ে রাখা এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ানোর এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

ঐতিহ্যের স্বাদ, মানুষের মিলন আর সম্প্রীতির বন্ধনে বার্মিংহামের এই মেজবান হয়ে রইল প্রবাসে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপনের এক স্মরণীয় আয়োজন।

সব শেষে গায়ক ইশতিয়াক আহমেদ আলীর চিটাগং এর গান,এবং ইমরুল ইসলাম এর কবিতা  প্রোগ্রাম কে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছিল। 

যুক্তরাজ্য থেকে আরো পড়ুন